‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে
আগের সাইবার নিরাপত্তা আইনে থাকা সব বিতর্কিত ধারা বাদ দিয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে না। এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত, আপনারাও নিশ্চিত থাকতে পারেন। আগের সাইবার নিরাপত্তা আইনে যেসব বিতর্কিত ক্লজ (ধারা) ছিল, সেসব বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই আইন নিয়ে আইসিটি নীতি উপদেষ্টা ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নাগরিকদের সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কেননা, নাগরিকদের সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট প্রাপ্তির অধিকারও ২(ভ) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৪ এর অন্তর্ভুক্ত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের ইন্টারনেট বন্ধের প্রেক্ষিতে অধ্যাদেশ পাশকে অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত মন্তব্য করে তিনি এজন্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ নজরুল, আইন মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি ডিভিশনের সচিব ও কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
তিনি বলেছেন, আইনটি সঙ্গায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ভবিষ্যতমুখী। একইসঙ্গে প্রযুক্তি ও কারিগরি দিক দিয়েও সমৃদ্ধ। এই আইনটি মানবিক ও ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত সুবিধা দেয়। হয়রানির প্রশ্নে আদালতকে অবহিত করণে বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে। একইসঙ্গে বিচারককেও পর্যাপ্ত স্পেস দিয়েছে। আইনের অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য করে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিপরীতে শাস্তিকে কমিয়ে অর্ধেকের কমে নামিয়ে আনা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের ১৭তম বৈঠকে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নিশ্চিত থাকুন, নতুন যে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, এর মাধ্যমে সাইবারস্পেস যেমন সুরক্ষিত হবে, আমাদের সবার জন্য, ঠিক তেমনি এটি আমাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করবে।
শেখ হাসিনার আমলে করা সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারা ও অপপ্রয়োগ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, আগের সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টকে স্ক্র্যাপ করা হয়েছে। এটি এত বেশি বিতর্কিত, একে আসলে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ব্যবহার করেছেন ভিন্নমত দমন করার জন্য, মুখ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য, কিংবা দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরির জন্য, কেউ যেন তার মতকে মুক্তভাবে প্রকাশ করতে না পারেন। তা পরিবর্তন করে এখন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর মূল বিষয় হলো আমরা সাইবার স্পেসকে সবার জন্য নিরাপদ করতে চাই। সাইবার স্পেসে অনেক ধরনের অপরাধ হয়, অনেকে প্রতারিত হন। মা-বোনেরা অনেক ধরনের বুলিংয়ের শিকার হন। শিশুদের অনেক ধরনের বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। সাইবার স্পেস নিরাপদ করা সরকারের দায়িত্ব।





